দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা আবারও শুরু করবে ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তিন দিনের জন্য এ ধরনের হামলা সীমিত রাখলেও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, আর নয়। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করার হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার গতি কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি ইচ্ছাকৃত বলে দাবি করেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার যে তথাকথিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাশিয়া তা মেনে চললে ইউক্রেনও এতে সম্মত হবে বলে জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তবে তাঁর অভিযোগ, ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে প্রস্তাবিত সমঝোতা উপেক্ষা করে। এসব হামলায় কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তবে ক্রেমলিন কখনোই ওই সমঝোতায় সম্মতি দেওয়ার কথা জানায়নি।
বুধবার রাতে পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে নিজেকে বিশ্বাসভঙ্গের শিকার মনে করছেন কি না, এমন প্রশ্নে সম্মতি জানান জেলেনস্কি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
রাশিয়ার আকাশপথে হামলার আগাম সতর্কবার্তা ও গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সম্মুখসারিতে যোগাযোগ এবং ড্রোন পরিচালনাসহ সামরিক কার্যক্রমে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করে ইউক্রেনের বাহিনী।
স্টারলিংকের সেবা সীমিত হওয়ার ঘটনাকে প্রথমে কারিগরি ত্রুটি বলে ধারণা করা হলেও এর মালিক ইলন মাস্ক এমন ব্যাখ্যা নাকচ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাস্কের দাবি, স্টারশিল্ড সিস্টেমটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন। এর গতি বা ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বক্তব্য জানতে চেয়েছে বিবিসি।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করলে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করবেন তিনি। ইরান যুদ্ধের কারণে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় ইউক্রেনের মার্কিন নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সংকট আরও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো কর্তৃত্ববাদী নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের বিশেষ অনুরাগ রয়েছে। গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক মেরামতের দায়িত্ব নিজের ওপর নিতে চান না বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য ইউক্রেন দায়ী নয়।
এর আগে গত বছর হোয়াইট হাউসে দুই নেতার এক বৈঠকে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়েছিল। সে সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শান্তিচুক্তির পথে প্রধান বাধা জেলেনস্কি। এরপর থেকে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন সমঝোতায় আগ্রহ দেখালেও যেকোনো শান্তিচুক্তির শর্ত ন্যায্য হওয়া উচিত বলে জোর দিয়ে আসছেন।
গত সপ্তাহে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৩ লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের বিষয়ে সমঝোতা হয়। এ চুক্তির সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, এর মাধ্যমে কার্যত রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থায়ন করা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানির মূল্য কমানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ মূল্যবৃদ্ধি তাঁর জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জেলেনস্কি বলেন, ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে আর কী ধরনের চুক্তি হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, পরবর্তী সমঝোতা গ্যাস নিয়েও হতে পারে। এদিকে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা সীমিত হওয়ার ঘটনাগুলোকে কাকতালীয় হিসেবে দেখছেন না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/